ইসলাম চরমপন্থার ধর্ম নয় الإسلام والتطرف

3.51 MB 58 1 Files
albyan
or download free
[free_download_btn]

Description

আল্লাহ বলেন:

“…যে কেউ কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করে, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল, আর যে কেউ কারো জীবন রক্ষা করে, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল…” [কুরআন ৫:৩২]

মৌলিক বিষয়গুলো জানুন

ইসলাম... চরমপন্থী ধর্ম?

“ইসলামী সন্ত্রাসী!” “মুসলিম মৌলবাদী!” “চরমপন্থী!” “উগ্র ইসলামপন্থী!” এগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিমদের এবং কিছু মুসলিম গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভুলভাবে প্রয়োগ করা কয়েকটি লেবেল।

মিডিয়ার ইসলামের চিত্রায়ন প্রায়শই ধর্ম সম্পর্কে যাদের জ্ঞান সীমিত তাদেরকে এই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল জীবনধারা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে বিভ্রান্ত করে।

ত্রিশ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞ সাংবাদিক পিটার ম্যানিং তার বই “আস অ্যান্ড দেম”-এ বলেছেন:

“আমার অভিজ্ঞতা বলে যে আরব এবং মুসলিম অস্ট্রেলিয়ানদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতার মধ্যে এবং আমাদের [অস্ট্রেলিয়ান] গণমাধ্যমে তাদেরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয় তার মধ্যে একটি বিশাল পার্থক্য রয়েছে।”

৬০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে [দুইটি প্রধান সংবাদপত্রের কাভারেজ থেকে], ‘হিংসা’, ‘মৃত্যু’, ‘আক্রমণ’, ‘হত্যা’, ‘আত্মহত্যা’ বা ‘বন্দুকধারী’ শব্দগুলো ‘আরব’, ‘ফিলিস্তিনি’, ‘মুসলিম’ বা ‘ইসলাম’ শব্দগুলোর নিকটবর্তী ছিল।

তাহলে কি আশ্চর্যের কিছু থাকে যে বেশিরভাগ মানুষ ইসলামকে সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত করে?

অজ্ঞতার এই সমস্যাটি একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে, যেখানে দেখা গেছে যে তিনজনের মধ্যে একজনেরও বেশি অস্ট্রেলিয়ান স্বীকার করেছেন যে তারা ইসলাম এবং এর অনুসারীদের সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

“যাদের মুসলিমদের সম্পর্কে সবচেয়ে কম জ্ঞান এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে, তারা ইসলামের দ্বারা সবচেয়ে বেশি হুমকির অনুভূতি পেয়েছিল,” ড. ডান বলেন, যিনি অস্ট্রেলিয়া-ইন্দোনেশিয়া ইনস্টিটিউটের কমিশনে এই গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন।

ইসলাম সম্পর্কে গণমাধ্যমের পক্ষপাত এবং অজ্ঞতার প্রসারকে ইসলামের সঠিক শিক্ষা বোঝার মাধ্যমে প্রতিহত করা যেতে পারে। এর অর্থ হলো কুরআন (যা মুসলিমরা আল্লাহর বাণী বলে বিশ্বাস করে) এবং নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিশুদ্ধ হাদিসের দিকে ফিরে যাওয়া। এই শিক্ষাগুলো সঠিকভাবে বোঝার মাধ্যমে, একজন আবিষ্কার করবে যে ইসলাম সব ধরনের চরমপন্থার সম্পূর্ণ বিরোধী।

কিভাবে কুরআন ভুলভাবে বোঝা যেতে পারে

কুরআন বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী পড়ার সময় প্রয়োজন সেই প্রেক্ষাপটটি বোঝা, যেখানে কথাগুলো প্রযোজ্য।

কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি তাদের মধ্যে জনপ্রিয় যারা ইসলাম সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়:

“আর তাদেরকে হত্যা করো যেখানে তাদেরকে পাও এবং তোমাদেরকে যেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে সেখান থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দাও, কারণ আল্লাহর ধর্ম থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখা হত্যার চেয়েও গুরুতর। তবে মসজিদুল হারামে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ শুরু করে। যদি তারা যুদ্ধ করে, তবে তোমরা তাদেরকে হত্যা করো; এটা কাফিরদের শাস্তি।” [কুরআন ২:১৯১]

কখনও কখনও, এই আয়াতটি বিপজ্জনকভাবে সংক্ষিপ্ত করে উপস্থাপন করা হয়:

“তাদেরকে যেখানে পাও হত্যা করো …” [কুরআন ২:১৯১]

স্পষ্ট প্রশ্ন হলো, “কাকে হত্যা করো?”। এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে কুরআনের ২:১৯১ আয়াতের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতগুলো পড়তে হবে।

“আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে এবং সীমালঙ্ঘন কোরো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” [কুরআন ২:১৯০]

উপরোক্ত আয়াতটি আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছে (অর্থাৎ যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের সাথে)। ২:১৯১-এর পরের আয়াত হলো:

“কিন্তু যদি তারা বিরত হয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [কুরআন ২:১৯২]

এই আয়াতগুলো তখন অবতীর্ণ হয়েছিল যখন মুসলিমদের তাদের ঈমানের কারণে নিজ বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। তারা দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্যাতন সহ্য করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিল।

উপরোক্ত আয়াতগুলো নবীর যুগের মক্কার আরব মুশরিকদের কথা উল্লেখ করছে, যারা মুসলিমদের নিপীড়ন করেছিল এবং তাদের আশ্রয়ের স্থানে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেছিল। সুতরাং, এই আয়াতগুলো শুধুমাত্র এমন পরিস্থিতিতেই প্রযোজ্য।

এই উদাহরণটি দেখায় যে কুরআনের আয়াতগুলোকে সঠিক প্রেক্ষাপটে বোঝা উচিত, কারণ আয়াতগুলো নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিতভাবে তেইশ বছরের সময়কালে ধাপে ধাপে অবতীর্ণ হয়েছে। এটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। তাই বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ বিভ্রান্তিকর বা ভুল হতে পারে।

অনুমোদিত যুদ্ধ/লড়াই

কোনো সন্দেহ নেই যে মুসলিমদের (অন্যান্য সকলের মতো) আক্রমণ বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বৈধ অধিকার রয়েছে।

ইসলাম শিক্ষা দেয় যে সম্প্রদায়ের মঙ্গল রক্ষা করা বা নিপীড়ন ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়েছে - এটি বিশেষ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রতিরক্ষামূলক বা আক্রমণাত্মক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হতে পারে।

ইসলাম, যেকোনো ‘জীবনব্যবস্থা’র মতো, টিকে থাকা নিশ্চিত করার জন্য, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হলে আত্মরক্ষার অধিকার রাখে।

কুরআনে (২২:৩৯) আমরা পড়ি:

“যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়েছে, তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের উপর অবিচার করা হয়েছে।”

তবে, যখন শত্রু তাদের শত্রুতা বন্ধ করে, তখন মুসলিমদের যুদ্ধ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

“আর যদি তারা শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে তুমিও তার দিকে ঝুঁকে পড়ো এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখো; নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু শুনেন ও জানেন।” [কুরআন ৮:৬১]

আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু), নবী মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘনিষ্ঠতম বন্ধু এবং প্রথম খলিফা, যুদ্ধ সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তুলে ধরেছিলেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে কেউ যেন নিম্নলিখিত কাজগুলো না করে:

· বিশ্বাসঘাতকতা করা

· মৃতদের বিকৃত করা

· সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া

· নারী, শিশু বা বৃদ্ধকে হত্যা করা

· গাছের ক্ষতি করা বা পুড়িয়ে দেওয়া, বিশেষ করে ফলবান গাছগুলোকে

· শত্রুর পশুহত্যা করা, শুধুমাত্র খাদ্যের জন্য ব্যতীত

· যারা নিজেদের জীবন ইবাদতের জন্য উৎসর্গ করেছে তাদের ক্ষতি করা

আমরা কুরআনের ২:১৯০ আয়াতে পড়ি, আল্লাহ মুসলিমদের সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করেন: “সীমালঙ্ঘন কোরো না।” যুদ্ধ পরিস্থিতি সীমালঙ্ঘনের জন্য অজুহাত হতে পারে না। ইসলাম অন্ধ প্রতিশোধ থেকে বিরত থাকতে শিক্ষা দেয়।

“অন্যদের প্রতি ঘৃণা যেন তোমাদেরকে ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখে। ন্যায়পরায়ণ হও; এটাই তাকওয়ার নিকটবর্তী।” [কুরআন ৫:৮]

সন্ত্রাসবাদ সঠিক প্রেক্ষাপটে

সন্ত্রাসবাদকে সঠিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরার সমস্যা হলো, "সন্ত্রাসবাদ" কী, তার কোনো সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা নেই। তাছাড়া, সন্ত্রাসবাদ বিভিন্ন রূপ ধারণ করে, যেমন নিম্নলিখিত উদাহরণগুলোতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর রবার্ট ফিস্ক লিখেছেন: “১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮২-এ ইসরাইল এবং তাদের মিলিশিয়া মিত্ররা সাবরা ও শাতিলা নামক ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে তিন দিনের ধর্ষণ, ছুরিকাঘাত ও হত্যার তাণ্ডব চালায়, যা ১,৮০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। এটি লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের পরে পিএলও (প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন) কে দেশ থেকে বিতাড়িত করার জন্য পরিকল্পিত হয়েছিল এবং (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক) সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল যার জন্য ১৭,৫০০ লেবাননি এবং ফিলিস্তিনিদের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যাদের প্রায় সকলেই বেসামরিক।

অধ্যাপক নোয়াম চমস্কির মতে, “এটি বিতর্কিত নয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। প্রকৃতপক্ষে, এটি একমাত্র রাষ্ট্র, যা ১৯৮৬ সালে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত দ্বারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের জন্য নিন্দিত হয়েছিল।”

একইভাবে, “১৯৯৫ সালে স্রেব্রেনিৎসায় ৮,০০০ মুসলিমের ভয়াবহ গণহত্যা - যাদের কিছু ছিল নিরস্ত্র - কখনোই খ্রিস্টধর্মের সহিংসতা ও দমনমূলক প্রবণতা সম্পর্কে ধারাবাহিক লেখার কারণ হয়নি।” - উইলিয়াম ডালরিম্পল, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে

“গত ছয় দশকে পশ্চিমা তথাকথিত খ্রিস্টান নেতাদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতা - যার মধ্যে রয়েছে একটি বিশ্বযুদ্ধ ও শীতল যুদ্ধ, হলোকাস্ট, দুটি পারমাণবিক বোমা, স্বাধীনতা যুদ্ধের দমন, প্রক্সি যুদ্ধ উসকে দেওয়া, পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি এবং রাষ্টীয় ও অ-রাষ্টীয় সন্ত্রাসীদের সমর্থন - স্বাভাবগতভাবে ইসলামকে আরোও সহিংস ধর্ম বা সভ্যতা হিসেবে দেখা অবান্তর প্রমাণ করে।” - রামা মণি (জেনেভা সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসি)

ইহুদি ও খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদের অনেক উদাহরণ রয়েছে, তবে আমাদের কখনোই সমস্ত খ্রিস্টান ও ইহুদিদের সন্ত্রাসী বলে সাধারণীকরণ করা উচিত নয়।

অনুরূপভাবে, সমস্ত মুসলিমকে বিচার করা উচিত নয়, বরং শুধুমাত্র অপরাধের সাথে জড়িতদেরই বিচার করা উচিত।

ইসলাম সন্ত্রাসবাদকে নিন্দা করে

নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের হৃদয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, ভবন ও সম্পত্তির পাইকারি ধ্বংস, নিরপরাধ পুরুষ, নারী ও শিশুদের বোমাবর্ষণ এবং পঙ্গু করা সবই ইসলাম এবং মুসলিমদের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ ও ঘৃণিত কাজ। এটি যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ, এমনকি পশ্চিমা রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদও অন্তর্ভুক্ত করে, যা অন্যান্য সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের তুলনায় অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি, আহত হওয়া এবং বাস্তুচ্যুতির কারণ হয়েছে।

যদি কোনো ব্যক্তি মুসলিম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে সে তাদেরই ধর্ম ইসলাম এর বিধান লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হবে। এটা কি ন্যায়সঙ্গত হবে সমস্ত মুসলিমকে দোষারোপ করা, যখন ধর্ম নিজেই এসব কর্মকাণ্ডের বিপক্ষে? মুসলিমরা আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, শান্তি, দয়া ও ক্ষমার ধর্ম অনুসরণ করে। অধিকাংশ মুসলিমের সহিংস ঘটনাগুলোর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, যা কিছু মানুষ – বিশেষত গণমাধ্যম – মুসলিমদের সাথে সম্পৃক্ত করেছে। ইসলাম চরমপন্থার ধর্ম নয়।

“যারা তোমাদের সাথে ধর্মীয় কারণে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের ঘর থেকে বহিষ্কার করেনি, আল্লাহ তাদের প্রতি সদয় ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।” [কুরআন ৬০:৮]

Similar Downloads

No related download found!