Description
"প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।" [কুরআন ২৯:৫৭]
মৃত্যু নিকটবর্তী
"তোমরা যেখানেই থাক, মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবে, যদিও তোমরা মজবুত ও সুউচ্চ দুর্গে অবস্থান কর।" [কুরআন ৪:৭৮]
মৃত্যু এমন একটি বাস্তবতা, যা থেকে কেউ রেহাই পাবে না। এটি প্রতিদিন, প্রতি ঘন্টা, প্রতি মিনিটে আমাদের নিকটে আসে।
সিআইএ-এর "ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক" ২০০৭ অনুযায়ী, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় দুইজন মানুষ মারা যায়। এটি একটি বিস্ময়কর সংখ্যা: প্রতি বছর ৫৭.৯ মিলিয়ন মানুষ মারা যায়! প্রত্যেক প্রাণীই এই অনিবার্য পরিণতির সম্মুখীন হবে, তাদের বয়স, স্বাস্থ্য, পটভূমি, সামাজিক মর্যাদা বা ধর্মীয়তা যাই হোক না কেন। কোথায় গেল অতীতের রাজারা, ধনকুবের এবং ক্ষমতাবানরা? কোথায় গেল সেই অতীতে সুন্দর, বিখ্যাত এবং বুদ্ধিজীবী অভিজাতরা?
মৃত্যুর বাস্তবতা
মৃত্যু কোনো বিপর্যয় নয়, বরং এই পৃথিবী থেকে পরকালে যাওয়ার একটি মাধ্যম।
এটি আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য এবং মৃত্যুর পর আমাদের কী হবে তা নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য করে।
আল্লাহ কুরআনে আমv‡`i‡K জানিয়েছেন যে তিনি আমাদের শুধু তাঁর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন এবং এই জীবনকে একটি পরীক্ষা বানিয়েছেন, যাতে দেখা যায় কে সেই উদ্দেশ্য পূরণ করবে:
"আমি জিন এবং মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [কুরআন ৫১:৫৬]
আল্লাহ আমাদের মৃত্যু ও জীবনের সৃষ্টির উদ্দেশ্যও জানিয়েছেন:
"তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন, তোমাদের মধ্যে কে কর্মে উত্তম।" [কুরআন ৬৭:২]
মৃত্যুর প্রস্তুতি তাড়াতাড়ি কফিন কেনা বা দাফনের ব্যবস্থা করvi মাধ্যমে হয় না। এটি জীবনের উদ্দেশ্য পূরণ Kivi gva¨‡g nq, Avi Zvnj– শুধু আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর আদেশ অনুযায়ী জীবনযাপন করা এবং সৎকাজ করা। ইসলামে ইবাদতের ধারণা ব্যাপক, এটি শুধু নামাজ আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতপক্ষে, যেকোনো কাজ যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে, তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য মানুষ পুরস্কৃত হবে।
মৃত্যুর মুহূর্ত
"প্রত্যেক প্রাণী যেন দেখে সে আগামীকালের জন্য কী প্রেরণ করেছে।" [কুরআন ৫৯:১৮]
প্রতিদিন আমরা মৃত্যুর উদাহরণ দেখি। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ মৃত্যুকে এমন মৃত্যু হিসেবে দেখি যা ব্যথাহীন এবং সহিংসতাহীন। তবে, এটি সবসময় এমন নাও হতে পারে।
যখন একজন মানুষ মারা যায়, তখন আত্মা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, ফলে শরীরের বাহ্যিক অবস্থা আত্মার অবস্থাকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে। আত্মার শান্তি বা অশান্তি সরাসরি নির্ভর করবে জীবনে কে তার উদ্দেশ্য কতটা পূরণ করেছে তার ওপর, এবং এর সাথে মৃত্যুর কারণের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।
দুই ব্যক্তির উদাহরণ বিবেচনা করুন, যাদের কাছে একমুখী টিকিট রয়েছে এমন একটি গন্ত‡ব্যi ‡hLv‡b আগে কখনও hvqwb। প্রথম ব্যক্তি সময় নিয়ে গন্তব্যস্থলের ভাষা, সংস্কৃতি এবং আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে শিখে। তিনি সঠিক মুদ্রা এবং টিকা সংগ্রহ করেন, এবং ভ্রমণের সময় এলে তিনি কোনো বিস্ময় ছাড়াই পৌঁছান। তিনি নিরাপদ ও তৃপ্ত, কারণ তিনি প্রস্তুতির জন্য সময় নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ব্যক্তি তার প্রস্তুতিতে অবহেলা করে এবং সময় আসা পর্যন্ত শুধু মুহূর্তের জন্য জীবন যাপন করে। তিনি অজানা গন্তব্যে পৌঁছে ভীত ও বিভ্রান্ত হন। তার প্রস্তুতির অভাব তাকে ভয়ঙ্কর পরিণতির মুখে ফেলে, কারণ সে যা কিছু নিয়ে এসেছে তা কোনো কাজে লাগেনি।
এমন গাফিল ব্যক্তিকে বর্ণনা করে আল্লাহ কুরআনে বলেন:
"যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে, ‘হে আমার রব! আমাকে ফিরিয়ে দাও, যাতে আমি যা অবহেলা করেছি তা সৎকর্ম করতে পারি।’ কখনোই না! এটা শুধু তার বলা একটি কথা।" [কুরআন ২৩:৯৯-১০০]
এছাড়াও বিবেচনা করুন সেই লোকদের উত্তর যারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, যখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে কী তাদেরকে সেখানে পৌঁছাল:
"তারা বলবে, ‘আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, গরিবদের খাওয়াইনি, এবং আমরা অর্থহীন কথাবার্তায় লিপ্ত ছিলাম যারা এতে লিপ্ত ছিল। আমরা প্রতিদানের দিবসকে অস্বীকার করতাম, যতক্ষণ না আমাদের কাছে নিশ্চিত মৃত্যু এসে পৌঁছায়।’" [কুরআন ৭৪:৪৩-৪৭]
আমাদের সবার জন্য মৃত্যু নির্ধারিত সময়ে আসবে এবং আমরা সবাই এই অজানা গন্তব্যের পথে যাত্রা করব।
নিজেকে প্রশ্ন করুন – আপনি কি এর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন?
জীবনের উদ্দেশ্য
"তোমরা কি মনে করেছ যে আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমাদের দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে না?" [কুরআন ২৩:১১৫]
জীবন একটি পরীক্ষা যা মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয়, তবে এটি অস্তিত্বের সমাপ্তি নয়।
মৃত্যু এসে গেলে ভালো কাজ করার সুযোগ শেষ হয়ে যায়। তখন তওবা করার mgq _v‡K bv| Avi আমাদের পরিণতি বর্তমান জীবনের বিশ্বাস ও কর্ম দ্বারা নির্ধারিত হবে। মানুষের জীবন দুটি অংশে বিভক্ত: এই দুনিয়াতে সংক্ষিপ্ত সময় থাকা এবং পরকালে চিরস্থায়ী জীবন। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কই বুঝতে পারবে যে চিরস্থায়ী আনন্দ পৃথিবীর স্বল্পস্থায়ী ভোগের চেয়ে অনেক বেশি উপকারী।
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের কাজের জন্য দায়ী করেছেন, আমাদেরকে সঠিক ও ভুল বুঝার বুদ্ধি এবং পছন্দের স্বাধীনতা দিয়েছেন। যদি কোনো পরকাল না থাকত যেখানে ভালোদের পুরস্কৃত করা হবে এবং মন্দদের শাস্তি দেওয়া হবে, তবে এটি আল্লাহর পরিপূর্ণ ন্যায়ের বিরোধী হতো।
সুতরাং এটি একটি পরিপূর্ণ ন্যায়ের দাবি যে একটি বিচার দিবস থাকবে, যেখানে প্রত্যেক প্রাণীকে হিসাবের সম্মুখীন করা হবে।
"তাহলে কি আমরা ঈমানদারদেরকে অপরাধীদের সমান করে দেব? কী হয়েছে তোমাদের? তোমরা কেমন বিচার করছ?" [কুরআন ৬৮:৩৫-৩৬]
বিচার দিবস
"তোমরা যে মৃত্যুর কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছ, তা অবশ্যই তোমাদের কাছে এসে পৌঁছাবে। তারপর তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা (আল্লাহ)-এর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন।" [কুরআন ৬২:৮]
এই জীবনে প্রত্যেক ব্যক্তির কাজ অত্যন্ত যত্ন সহকারে লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষিত থাকে, যেমন আল্লাহ বলেন:
"এবং আমলনামা সামনে রাখা হবে, আর তুমি অপরাধীদেরকে এতে যা লেখা রয়েছে তা দেখে আতঙ্কিত হতে দেখবে। তারা বলবে, ‘হায়, দুর্ভাগ্য আমাদের! এই কেমন আমলনামা, যা ছোট-বড় কিছুই বাদ দেয়নি; সবকিছুই হিসাব করেছে!’তারা যা কিছু করেছে, তা তাদের সামনে উপস্থিত পাবে। তোমার রব কাউকের ওপর জুলুম করেন না।" [কুরআন ১৮:৪৯]
আমাদের সমস্ত কর্মের এমন নিখুঁত রেকর্ড দেখে আমরা বিস্মিত হবো, কারণ আমাদের সেই বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে যা আমরা বহু আগেই ভুলে গিয়েছিলাম। আল্লাহ বলেন,
"আল্লাহ তার হিসাব রেখেছেন, অথচ তারা তা ভুলে গেছে।" [কুরআন ৫৮:৬]
এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা আমাদেরকে যে কোনো পাপ করা থেকে লজ্জিত করবে, এটা জেনে যে তা আমাদের বিরুদ্ধে রেকর্ড করা হবে এবং বিচার দিবসে আল্লাহর সামনে প্রকাশিত হবে।
যারা আল্লাহর পুনর্জীবন দান ও বিচার করার ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে, আল্লাহ কাফেরদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন:
"তারা বলে, ‘কে এই অস্থিগুলোকে জীবন দান করবে, যখন এগুলো পচে ধুলোর মতো হয়ে গেছে?’" "বলুন (হে মুহাম্মদ), ‘যিনি প্রথমবার এগুলো সৃষ্টি করেছিলেন, তিনি এগুলোকে জীবন দান করবেন। আর তিনি সকল সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।'" [কুরআন ৩৬:৭৮-৭৯]
জান্নাত ও জাহান্নাম
যারা আল্লাহকে একমাত্র উপাসনার যোগ্য মেনে সৎকাজ করে, তাদের পুরস্কার স্বরূপ জান্নাত দেওয়া হবে।
"নিশ্চয়ই, সেই দিনে জান্নাতের অধিবাসীরা আনন্দময় কাজে ব্যস্ত থাকবে। তারা এবং তাদের স্ত্রীগণ সুখকর ছায়ায় আরশে হেলান দিয়ে বসে থাকবে। তাদের জন্য সেখানে থাকবে সব রকমের ফলমূল এবং তারা যা কিছু চাইবে তা-ই তাদের দেওয়া হবে।" [কুরআন ৩৬:৫৫-৫৭]
নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ণনা করেছেন যে আল্লাহ বলেছেন:
"আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন চমৎকার বস্তু প্রস্তুত করেছি, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে কল্পনাও আসেনি।"
Avi hviv আল্লাহর একত্ব অস্বীকার Ki‡e, Zvi mv‡_ wecixZ AvPviY Kiv n‡e, Zv‡i‡K বলা হবে:
"এটাই সেই জাহান্নাম যার ব্যাপারে তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল! আজ তোমরা এতে প্রবেশ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে।" [কুরআন ৩৬:৬৩-৬৪]
অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি:
"নিশ্চয়ই, জাহান্নাম অপরাধীদের জন্য ওৎ পেতে রয়েছে, এটি তাদের প্রত্যাবর্তনের স্থান, যেখানে তারা যুগের পর যুগ অবস্থান করবে তারা সেখানে কোনো ঠান্ডা বা পানীয় স্বাদ পাবে না, শুধু ফুটন্ত পানি এবং ক্ষতচিহ্ন থেকে নির্গত পুঁজ; এটি তাদের কৃতকর্মের উপযুক্ত প্রতিদান! নিশ্চয়ই, তারা হিসাবের প্রত্যাশা করত না এবং তারা আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত। কিন্তু আমরা সবকিছু একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেছি। সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, আর আমরা তোমাদের কেবল শাস্তিই বৃদ্ধি করব।" [কুরআন ৭৮:২১-৩০]
উপসংহার
"হে মানুষ! তোমাকে তোমার পরম দয়ালু রব সম্পর্কে কে ধোঁকায় ফেলেছে? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তোমাকে সুসংগঠিত করেছেন এবং তোমার আকার সুন্দর করেছেন। যে কোনো আকৃতিতে তিনি ইচ্ছা করেছেন, তাতে তোমাকে গঠন করেছেন। কখনোই না! বরং তোমরা প্রতিদানের দিনকে অস্বীকার করছ।" [কুরআন ৮২:৬-৯]
"নিশ্চয়ই, সৎকর্মশীলরা থাকবে সুখ-সমৃদ্ধিতে, আর নিশ্চয়ই, পাপীরা থাকবে জাহান্নামের আগুনে।" [কুরআন ৮২:১৩-১৪]
মৃত্যু অবধারিত। জীবনের উদ্দেশ্য হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, সৎকর্ম করা এবং যা নিষিদ্ধ তা থেকে বেঁচে থাকা। আমাদের পরিণতি নির্ধারিত হচ্ছে আমাদের বর্তমান কাজের ভিত্তিতে, সুতরাং আমরা পৃথিবীতে আমাদের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে জান্নাতে চিরস্থায়ী স্থান নিশ্চিত করতে পারি, অথবা আমরা তা নষ্ট করে নিজেদেরকে জাহান্নামে চিরস্থায়ী শাস্তির মুখে ফেলতে পারি।
